বাংলাদেশ ভিসা
বাংলাদেশ ভিসা, আমাদের কাউন্টার থেকে দাখিল
ভিসা দেয় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন, আমরা নই। আমাদের কাজ ফাইল তৈরি করা, চলতি নিয়মের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং জমা দেওয়া — যাতে ছবির মাপ বা বাংলাদেশের অসম্পূর্ণ ঠিকানার ভুল কাউন্টারের জানালায় নয়, এখানেই ধরা পড়ে।
আবেদন হয় অনলাইনে, visa.gov.bd ঠিকানায়। নিয়ম, ফি ও ফরম ঠিক করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং তা আগাম নোটিশ ছাড়াই বদলায়; নিচের সবকিছু নির্দেশিকা হিসেবে দেখুন এবং যাত্রার আগে আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
আবেদনের আগে
ফরম খোলার আগেই এগুলো হাতে রাখুন। আবেদনে সবকিছু একবারেই চাওয়া হয়, আর অর্ধেক ভরা ফরমই ফাইল ফেরত আসার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
পাসপোর্ট
অন্তত ছয় মাসের মেয়াদ এবং খালি পাতা থাকতে হবে। পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেটিও নিয়ে আসুন।
ছবি
৪৫×৩৫ মিমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, গত ছয় মাসের মধ্যে তোলা। অনলাইন ফরমের জন্য ৩০০ কেবি-র কম JPEG।
বাংলাদেশের ঠিকানা
যেখানে থাকবেন তার পূর্ণ ঠিকানা: গ্রাম, ডাকঘর, থানা, জেলা, পিনকোড ও শহর। এই ঘরটি বাধ্যতামূলক, আন্দাজে লেখা চলবে না।
যোগাযোগের তথ্য
চালু ফোন নম্বর ও ইমেইল — অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পাসপোর্ট ফেরতের খবর দুটোতেই আসে।
বসবাসের প্রমাণ
আধার, ভোটার আইডি, রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্যান। যেকোনো একটি, ফরমের ঠিকানার সঙ্গে মিলিয়ে।
কোন ভিসায় কী লাগে
ভ্রমণের উদ্দেশ্যের সঙ্গে ভিসার ধরন মিলতে হবে — ট্যুরিস্ট ভিসায় ব্যবসার কাজে গেলে আটকাবে সীমান্তে, কাউন্টারে নয়।
ট্যুরিস্ট
বসবাসের প্রমাণ এবং WHO-স্বীকৃত টিকার সনদ। পরিবারের আবেদন একসঙ্গে জমা হয়।
ব্যবসা
স্বীকৃত বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বারের সনদ, আর ব্যবসা সচল থাকার কাগজ।
শিক্ষার্থী
সরকার-অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ভর্তির চিঠি, স্পনসরশিপ চিঠি ও ব্যাংক গ্যারান্টি।
চাকরি ও ওয়ার্ক পারমিট
নিয়োগপত্র, এবং BIDA, BEPZA বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ।
চিকিৎসা
হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ভর্তির চিঠি এবং চিকিৎসার খরচ বহনের প্রমাণ।
অন্যান্য
বিনিয়োগকারী, ইন্টার্ন ও গবেষণা, এনজিও, সাংবাদিক, সরকারি প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক ভিসার নিজস্ব তালিকা আছে। কাউন্টারে জিজ্ঞেস করুন, চলতি তালিকা জানিয়ে দেব।
যে ফরম লাগতে পারে
ফরম নামাতে হয় অফিসিয়াল আবেদন কেন্দ্র থেকে, আমাদের কাছ থেকে নয়। কোনটি আপনার লাগবে তা আমরা বলে দেব — ভুল ফরম মানে একটি দিন নষ্ট।
MRV ফরম
সাধারণ মেশিন-রিডেবল ভিসার আবেদন।
অফলাইন MRP রি-ইস্যু ফরম
পাসপোর্টের সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্য।
আমদানি ও রপ্তানি নীতির ফরম
বাণিজ্যিক কাগজপত্রের জন্য।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ফরম
যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা দরকার তাঁদের জন্য।
প্রকল্পকর্মীদের ফরম
সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্পে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ফরম
বাংলাদেশে চিকিৎসাবিদ্যা পড়া ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য।
শিশু এনডোর্সমেন্ট ফরম
বাবা বা মায়ের পাসপোর্টে শিশুর ভ্রমণের জন্য।
আবেদন কেন্দ্রে
কেন্দ্রটি নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত ভবন এবং নিয়ম মানা হয় দরজাতেই। মালপত্র রাখার ব্যবস্থা নেই, তাই এই তালিকার জিনিস আসার আগেই রেখে আসতে হবে।
কোনো ইলেকট্রনিকস নয়
মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ল্যাপটপ, মিউজিক প্লেয়ার, ডিস্ক ও ক্যাসেট।
শুধু কাগজপত্র
আবেদনপত্র রাখা একটি প্লাস্টিক ফোল্ডার। ব্যাকপ্যাক, ট্রাভেল ব্যাগ, ব্রিফকেস বা সুটকেস নয়।
দাহ্য কিছু নয়
দেশলাই, লাইটার ও জ্বালানি।
ধারালো কিছু নয়
কাঁচি, ছুরি ও নেইল ফাইল, সেইসঙ্গে অস্ত্র ও বিস্ফোরক।
সিলমোহরকৃত খাম নয়
প্যাকেট ও সিল করা খাম ঢোকানো যায় না। নিরাপত্তারক্ষীরা প্রয়োজনে অন্য জিনিসও আটকাতে পারেন।
শুধু আবেদনকারী
বন্ধু, আত্মীয় ও ব্যবসায়িক পরিচিতরা বাইরে অপেক্ষা করবেন। শ্রবণপ্রতিবন্ধী আবেদনকারীর দোভাষী ঢুকতে পারেন, আর প্রয়োজনে কর্মীরা সাহায্য করেন।
খরচ কত
দুই জায়গার দুই রকম খরচ। এর একটিই কেবল আমাদের।
- ভিসা ফি
- ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে
- নির্ধারণ করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। অন্য দেশের নাগরিকদের ফি দিতে হয় এবং রসিদ সংযুক্ত করতে হয়।
- আবেদন কেন্দ্রের সার্ভিস চার্জ
- ₹825
- ৬৯৯.৫০ টাকা ও কর, ফাইল জমা দেওয়ার জন্য আবেদন কেন্দ্র নেয়। আনুমানিক — চলতি অঙ্ক আমাদের থেকে জেনে নিন।
- আমাদের ফাইলিং চার্জ
- কাউন্টারে জিজ্ঞেস করুন
- ভিসার ধরন এবং ফাইলের কতটা আমরা তৈরি করছি তার উপর নির্ভর করে। জমা দেওয়ার আগেই আমরা দর জানিয়ে দেব।
একটি সতর্কবার্তা
কেউ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ভিসা কিনে দিতে পারে না। নিশ্চিত ভিসা, দ্রুত লাইন বা অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা — আবেদন কেন্দ্র নিজেই তা লিখে রেখেছে। আপনি যার যোগ্য আমরা তারই আবেদন করি, আর যোগ্য না হলে সেটাও বলি।
